• July 3, 2022

ফের বিশ্ব যোগ দিবসে ক্যামেরার সামনে যোগ করতে দেখা গেলে প্রধানমন্ত্রীকে

 ফের বিশ্ব যোগ দিবসে ক্যামেরার সামনে যোগ করতে দেখা গেলে প্রধানমন্ত্রীকে

আসমান ডেস্ক :ফের বিশ্ব যোগ দিবসে ক্যামেরার সামনে যোগ করতে দেখা গেলে প্রধানমন্ত্রীকে। সকাল থেকেই এই ফুটেজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। প্রিন্ট মিডিয়া ব্যস্ত মোদির স্থির ছবি নিয়ে। সোশ্যাল সাইটে ব্যস্ত ভক্তরা । তেমনই মিম কারিগররাও লেগে পড়ল হাস্যরস উৎপাদনের কাজে। মোদ্দা কথা হল, মোদীজি মানেই একটা প্যাকেজ। কেউ সেটা সিরিয়াসলি নিতে পারে, কেউ তার কাজকর্মকে সাবজেক্ট করে খিল্লি করতে পারে। এই খিল্লির উপাদান মোদীজী নিজেই দেন। তাই মোদীজির কাজে সব ধরনের মিডিয়া আন্তরিক ভাবে ঋণী।

emeAcademy-BBA
StartupPedia

আট বছরে গেরুয়া শাসনে বিদ্বেষের লতায় ফুল এসেছে। আর কিছু দিন অপেক্ষা করলে তাতে ফলও ধরবে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে একটা আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরী হয়েছে। সামান্য প্রতিবাদে বুলডোজার চালিয়ে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হচ্ছে প্রতিবাদীর মাথার ছাদ। সব দেখেশুনে চুপ করে রয়েছেন আব্বাসের বন্ধু মোদীজী। যাঁর শৈশব এমন পরধর্ম সহিষ্ণুতাই কেটেছে, তিনি পরে এমন হয়ে উঠলেন কেন। বারবার কেন মুসলিমদের ভাবাবেগে আঘাতকে প্রত্যক্ষে কিংবা পরোক্ষে মেনে নিলেন। ২০০২ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁকে যে রাজধর্ম পালনের পাঠ দিয়েছিলেন, সেটাকে অবশ্য সিরিয়াসলি নেননি মোদিজি।
কর্ণাটকের মহীশূর প্রাসাদের মাঠে ভাষণ দিতে গিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যোগ আমাদের সমাজে শান্তি আনে। যোগ আমাদের জাতি এবং বিশ্বে শান্তি আনে। এবং যোগ আমাদের মহাবিশ্বে শান্তি আনে,” । ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করে। সেই থেকেই ফি বছর এই ২১ জুন মহাধুমধামে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে যোগ দিবস।যোগ কেবল শরীরিক কসরত নয়। যোগ হল একযোগে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন। একটি বাদ দিয়ে আর একটি নয়। এর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋকবেদে। উপনিষদেও যোগের কথা রয়েছে।
প্রশ্ন হল সেই ২০১৪ থেকে এমন মহাধুমধাম করে যোগ দিবস পালনের পরও দেশজোড়া বিদ্বেষের এমন বাড়বাড়ন্ত থাকছে কিভাবে। কিভাবে দিনের পর দিন দুর্যোধন ও দুঃশাসনদের অনুসারী বাড়ছে। এর উত্তর জটিল নয়। আসলে সকলে মিলে যোগকে বাইরের বিষয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। সেটি আসলে বাহির এবং ভিতরের সম্মিলিত রূপ। তা কেবল প্রদর্শনের বিষয় নয়। আজকের দিন যোগ কেবল ক্যামেরা ফ্রেন্ডলি সাবজেক্ট হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যার মধ্যে অণুপরিমাণও আধ্যাত্মিকতা নেই।থাকলে গেরুয়া বসনে বিদ্বেষের বাণী প্রচার করতে অনেকে লজ্জা পেতেন। সেই বিদ্বেষ সম্বল করে রাজনীতি করতেও লজ্জা পেতেন অনেকে। একথা সত্য প্রকৃত যোগ আজকের দিনে অত্যন্ত জরুরি। যে যোগ মানুষের ভিতরে পরিবর্তন আনবে, মানুষকে ভিতর থেকে জাগিয়ে তুলবে, সেই যোগ জরুরি। তা না হলে এটিও আসলে গেরুয়া রাজনীতির সংষ্কৃতিতে স্থায়ী রূপ নেবে।

Hospitech

editor

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post

Shares