• July 3, 2022

হিন্দুর সৎকারে এগিয়ে এল সংখ্যালঘু ভাইয়েরা

 হিন্দুর সৎকারে এগিয়ে এল সংখ্যালঘু ভাইয়েরা

আসমান ডেস্ক : বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায়’ মোরা এক বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু মুসলমান হিন্দু তার নয়ন মনি মুসলিম তার প্রাণ’ । সেই কথাই যেন বাস্তবে রূপ নিল! মাধবের পাশে এসে দাঁড়ালো মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ জন প্রতিবেশী। এ এক অনন্য সম্প্রীতির বার্তা। মুসলিম সম্প্রদায়ের হয়েও অসহায় হিন্দু পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে হিন্দু শাস্ত্রমতে শ্মশানযাত্রায় শামিল মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। জাত-পাত ধর্ম-অধর্ম উচ্চ নিচ সমস্ত কিছু পিছনে ফেলে আরোও একবার সম্প্রীতির ছবি ফুটে উঠল হাওড়া জেলার সাঁকরাইলে। মৃত্যুর পর এক হিন্দু বৃদ্ধের সৎকারে কাঁধ বাড়ালেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।

emeAcademy-BBA
StartupPedia

সাঁকরাইলের সর্দার পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন সন্তোষ কর্মকার। দীর্ঘ দিন হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন ৭৫ বছর বয়সি সন্তোষ। ছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যাও। এদিন ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তিনি নিজের বাড়িতেই মারা যান। তাঁর এক ছেলে মাধব কর্মকার পেশায় গৃহশিক্ষক। বাবার চিকিৎসায় বেশ ভাল পরিমাণ টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার কারণে ওই পরিবারের হাতে দেহ সৎকারের অর্থ ছিল না। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই এগিয়ে আসেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাঁরা নিজেদের টাকা খরচ করে সৎকারের ব্যবস্থা করেন। বাঁশ কিনে এনে শ্মশানযাত্রার খাট তৈরি করেন নিজেরাই। নামাবলী থেকে ফুল, ধূপ, এমনকি, খই পর্যন্ত কিনে নিয়ে আসেন। তার পর মুসলমান ভাইদের কাঁধে চেপে শেষ যাত্রা হয় সন্তোষবাবুর।

emeAcademy-BHM

মৃতের ছেলে মাধব জানায়,সন্তোষবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে সংখ্যালঘু প্রতিবেশীরা নিজে থেকে এগিয়ে আসেন। তাঁরাই সৎকারের যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। পিতৃহারা মাধব আরও জানায়,এই গ্রামে ধর্মের ভেদাভেদ নেই। প্রতিবেশী নাসিরুদ্দিন সর্দার বলেন, ‘‘এখানে হিন্দু-মুসলমান ভাই-ভাই। মাধবের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ। শবদাহ নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। তাই আমরা এগিয়ে আসি। ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা খুশি।’’

Hospitech

editor

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related post

Shares